হিমাংশু শেখর ধর : শ্রদ্ধায় স্মরণ (পর্ব-১)

ধ্রুব গৌতম

হিমাংশু শেখর ধর : শ্রদ্ধায় স্মরণ (পর্ব-১)

ধ্রুব গৌতম

ঢাকার একটি জাতীয় পত্রিকাকে যারা প্রথম ট্যাবলয়েড হিসেবে স্বীকৃতি দেন আমি নিশ্চিত যে তারা দেশবার্তা পত্রিকাটির কথা ভুলে গেছেন। আমার এ কথা নিয়ে যদি কেউ প্রশ্ন তুলেন তবে আমি আগেই ক্ষমাপ্রার্থী। আমার ধারণা ভুল হতে পারে তবে আমার বক্তব্যে স্বপক্ষে বিশ্বাস প্রবল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের উত্তর পূর্ব অঞ্চলে রোদেলা কিরণে উদ্ভাসিত হয় সাপ্তাহিক দেশবার্তা। পারিবারিক পরিমন্ডলে নানা কারণে দেশবার্তার গ্রহণযোগ্যতা ছিলো আকাশচুম্বি। আমাদের পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠে বাবা মায়ের কারণে। বাবা সিলেটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরী করতেন। পেশাগত কারণে বাবা পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা পেয়ে সাথে করে বাসায় নিয়ে আসতেন। দেশবার্তা, যুগভেরী ছিলো নিয়মিত। এক সময় অভিজাত ও সম্ভান্ত পরিবারের লোকেরা পত্রিকা, সাহিত্য পত্র প্রকাশ করতেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার থেকে শুরু অনেক স¦নামধন্য পরিবারে এমন নিদর্শণ আছে। সাপ্তাহিক দেশবার্তা পত্রিকাটি এমনই এক সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত পরিবার থেকে প্রকাশিত। মৌলভীবাজার মহকুমার রজনগর খলাগ্রামের জমিদার পরিবারের সদস্য হিমাংশু শেখর ধর ঝর্ণা বাবু। বাবা সুন্দরী মোহন ধর সিলেট জেলা বারের খ্যাতিমান আইনজীবি। আইন পেশার কারণে শহরের কাষ্টঘরে তিনি বাসস্থান গড়ে তুলেন। হিমাংশু শেখর ধর কাষ্টঘরের এই বাসাতেই জন্ম গ্রহণ করেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছ¡লতা থাকার কারণে শহরের বুকে লেখাপড়া করে চাকুরী না করে এমন কি বাবার পেশায় জড়িত না হয়ে স্বাধীন ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা সাংবাদিকতায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
শ্রদ্ধেয় হিমাংশু শেখর ধর ঝর্ণা বাবুকে স্বচক্ষে দেখার, তাঁর সান্নিধ্য, তাঁর ¯েœহ পাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। কাষ্টঘরে বাবার সাথে বেড়াতে গেলে বেশ কটা বাসায় যাওয়ার সুযোগ হত। লীলা রায় পিসী, আলো ছায়া স্টুডিওর বকুল কাকু, এডভোকেট পূর্ণেন্দু পুরকায়স্থ তমাল কাকু, বাবুল ভট কাকু, মৃনাল কাকু, ঝর্ণা জ্যাঠু, এডভোকেট জ্যোতির্ময় দেব কাকু, শৈলেশ স্যার, সজল শ্যাম কাকু, মধূু ভট দাদুর বাসা ছিলো কমন।
সিলেটের জেলা প্রশাসনে আমার বাবা প্রেমাঙ্কুর দাস (ভানুবাবু) সুদীর্ঘ বছর চাকুরীরত থাকায় ঝর্ণা বাবুর সাথে গাঁট ছাড়া বাঁধন গড়ে উঠে। সিলেটের বেশ কিছু
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদে দায়িত্বশীল পদে থাকায় শিক্ষা শাখায়, পত্রিকার প্রকাশনার অনুমোদন, সম্পাদনার দায়িত্ব, প্রেসে অন্যান্য পত্রিকা প্রকাশের অনুমোদন এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কমিশনার হওয়ায় স্থানীয় সরকার শাখার নানান কাজের সাথে ঝর্ণা ধর সম্পৃক্ত হয়ে যান। আর এর সুবাদেই বাবার সাথেও হৃদ্যতা হয়।
আমাদের পাড়ার শ্রদ্ধেয় নাট্যকার ও গীতিকার বিদ্যুৎ কর এক সময় সাপ্তাহিক দেশবার্তায় লেখালেখি করতেন। যতটুকু জানি তিনি প্রতিনিধিও ছিলেন। পাড়ার আরেক খ্যাতিমান সাংবাদিক ও গীতিকার অজয় পাল কাজ করেছেন সাপÍাহিক দেশবার্তায়। আমার আপন মামা মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মৃনাল চৌধুরী কাজ করেছেন এই পত্রিকায়।
সেই সময়ে অনেক প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি সাপ্তাহিক দেশবার্তা পত্রিকার মাধ্যমে। তবে আমি বিশেষ করে বিশেষভাবে যে তিন জনের নাম উল্লেখ করেছি। তাদের কারণেই সাপ্তাহিক দেশবার্তার সাথে আমার একটা নাড়ি ছেঁড়া বাঁধন হয়ে গেছে। শৈশবে শিশু একাডেমীর শিক্ষার্থী আর সুরমা খেলাঘর আসরের কর্মী হওয়ায় সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি হৃদ্যতা গড়ে উঠে। ছড়া-কবিতা পড়া, শেখার সাথে লেখারও যখন অভ্যাস হয়ে গেলো তখন এই তিনজন মানুষই আমার লেখাগুলো দেশবার্তার বুকে ছাপানোর ব্যবস্থা করে দিতেন।
আমাদের বাড়ীর পাশেই বিদ্যুৎদার বাসা। বাসার সাথে দোকান। বেশীর ভাগ সময়ে বিদ্যুৎদার বড় ভাই ভেন্টুদা (বিনয় ভূষণ কর) দোকানে বসতেন। নতুন কোন ছড়া বা কবিতা লিখলে হাফ পেন্টের পকেটে নিয়ে ঘুরতাম। বিদ্যুৎদাকে দোকানে বসা দেখলে দোকানে এসে তাঁর হাতে তুলে দিতাম। অজয় পাল কাকু ট্রাকস্যুট আর কেডস পরে বাড়ীর সামনে দিয়ে মর্ণিং ওয়াক করতেন, আমার মেজকাকু বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্রের গীতিকার মৃগাঙ্কুর দাস উরফে সন্তোষ কুমার দাসের ঘরেও আসতেন। সেই দুটো সময়ে সুযোগ করে নুতন লেখাগুলো অজয় কাকুর হাতে তুলে দিতাম। সেজমামা মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মৃনাল চৌধুরী বাসায় এলে আমার লেখা নিয়ে যেতেন। তখন আমার লেখক নাম ছিলো ধ্রæব জ্যোতি দাস গৌতম।
অনেক সময় বিদ্যুৎদাকে দোকানে বা বাসায় পাওয়া না গেলে, অজয় পাল কাকুকে ভোরবেলা রাস্তায় মর্ণিং ওয়াকে বা কাকার ঘরে না পেলে, সেজমামা কদিনের মধ্যে বাসায় না এলে আমি নিজে লেখা নিয়ে চলে যেতাম কাষ্টঘরে ঝর্ণা ধর বাবুর বাসার সিলেট প্রিন্টার্সে।
সে সময় সিলেট প্রিন্টার্সে চাকুরী করতেন আমাদের বাড়ীর কূল পুরোহিত নান্টু শর্ম্মণ এবং সিলেটের প্রবীণ নাট্যশিল্পী দাড়িয়াপাড়ার বিমান দাসের ছেলে বাবুই দাস। অনেক সময় আমার লেখা নিজে বিকাল বেলা গিয়ে দিয়ে আসতাম তাদের হাতে। আবার পাইলট স্কুলে ভর্ত্তি হওয়ায় স্কুল শেষে নিজেই প্রেসে গিয়ে দিয়ে আসতাম।
আমাদের পূর্ব পুরুষের দানকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিম্বার্ক আশ্রমের পরিচালনা পরিষদে ছিলেন হিমাংশু শেখর ধর ঝর্ণা বাবু। তাঁকে আশ্রমের সকল উৎসবেই দেখা যেত। বাবা এবং ঝর্ণা ধর বাবু রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভোলানন্দ রাসকুঞ্জ সেবাশ্রম পরিচালনা পরিষদে
সুদীর্ঘ বছর এক সাথে কাজ করেছেন।
কাষ্টঘরে দুজন কালী সাধক ছিলেন। একজন মৃনাল কাকু। সাইকেল চালাতেন। শ্যামলা বর্ণের। বিদ্যুতের কাজ করতেন। সাইকেলে জড়ানো থাকতো বিদ্যুতের তার। সাথে বৈদ্যুতিক নানার সরঞ্জামাদি। অন্যজন মধুসুদন ভট্টাচার্য্য। বিদগ্ধ পন্ডিত। শ্রাস্ত্রজ্ঞ। উনার ঘরে কালীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত। বাড়ীর উৎসব আয়োজনে ছিলো আমাদের পারিবারিক যাতায়াত। মৃনাল কাকু আর মধূসুদন দাদুর ঘরের আয়োজনে গেলে বাবা ঝর্ণা ধরকে দেখে আসতেন।
বাবা তাঁর বন্ধু ও বন্ধুতুল্য ক’জনের বাসায়ও নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন। তাদের মধ্যে আলো ছায়া স্টুডিওর বকুল কাকু, এডভোকেট পূর্ণেন্দু পুরকায়স্থ তমাল কাকু, মডেল স্কুলের শিক্ষক সত্যজ্যোতি শ্যাম সজল ছিলেন অন্যতম। তাছাড়াও পাইলট স্কুলের শিক্ষক শৈলেশ স্যারের বাসা, এডভোকেট জ্যোতির্ময় নারায়ন কাকুর বাসায় যেতেন। যে কোন জনের বাসায় গেলেও ঝর্ণা ধর বাবুর বাসায় যাওয়াটা ছিলো বাধ্যতামূলক।
বরেণ্য হিমাংশু শেখর ধর ঝর্ণা বাবুকে নিয়ে তাঁর জীবদ্দশায় কোন সম্মাননা সম্বর্ধনা জানানো হয়েছে কি না তা জানা না গেলেও মৃত্যুও এক বছরের মধ্যে ‘ মৃত্যুঞ্জয়ী হিমাংশু শেখর ধর’ শিরোনামে একটি স্মারক প্রকাশ করা হয়।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী হিমাংশু শেখর ধর’ স্মারক গ্রন্থটি সম্পাদনা পরিষদের উদ্যোগে সম্পাদনা করেন কলামিষ্ট রফিকুর রহমান লজু ্ধসঢ়;ও গবেষক তাজুল মোহাম্মদ। স্মারটিতে স্মৃতিচারণমূলক ও নিবেদিত লেখা লিখেন অধ্যক্ষ মো: আবুল বশর, গণমানুষের কবি দিলওয়ার, উপাধ্যক্ষ প্রণব কুমার সিংহ, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, প্রবীণ সাংবাদিক এসবি দাশ, অধ্যক্ষ বিমলকান্তি ঘোষ, প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট আফম কামাল, প্রধান শিক্ষক বিরাজমাধর চক্রবর্ত্তী মানস, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ইসহাক কাজল, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও কলাম লেখক সাদেরা সুজন, এডভোকেট বিদ্যুৎ কান্তি দে, কবি ও অধ্যক্ষ মহিউদ্দীন শীরু, শ্রীহট্ট ব্রাম্মসমাজ এর সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন, সাংবাদিক আল আজাদ, কবি ফকির ইলিয়াস, দৈনিক সিলেটের ডাক এর সহ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন ইসকা, প্রবাসী মৃদুলকান্তি তালুকদার, সাংবাদিক কিরীটি সিংহ রায়, প্রবাসী সাংবাদিক থোকচোম মণিহার শোনী, পেশাজীবী ভূষণজিৎ চৌধুরী ও কলামিষ্ট রফিকুর রহমান লজু। স্মারক গ্রন্থেও প্রচ্ছদ অঙ্কন করে ক্ষণজন্মা চিত্রকর শাহ আলম।
মৃত্যুঞ্জয়ী হিমাংশু শেখর ধর স্মারক গ্রন্থের সম্পাদনা পরিষদে ছিলেন রফিকুর রহমান লজু, তাজুল মোহাম্মদ, গোপেন দেব ও দিবাকর ধর রাম। স্মারকটি প্রকাশ করে নাগরিক শোক সভা কমিটি,মন্ট্রিয়ল, কানাডা। স্মারকটি ২৬ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে চলন্তিকা প্রিন্টার্স, চৌহাট্টা, সিলেট এ ছাপানো হয়। যার মূল্য রাখা হয় ১০০ টাকা। স্মারকগ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় “বৈরী ও শৃঙ্খলিত পরিবেশেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন যেসব সাহসী সাংবাদিক”।
এই স্মারক গ্রন্থ থেকে সংগৃহিত তথ্য আগামী প্রজন্মের জন্য তুলে ধরা হলো।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানাধীন ইন্দেশ্বর পরগনায় খলাগ্রামে সুন্দরী মোহন ধর ও প্রভাবতী ধর’র সংসারে হিমাংশু শেখর ধর ২৬ এপ্রিল ১৯১৯ খ্রি. সিলেটের প্রাচীনতম জনবসতি কাষ্টঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি সিলেট শহরে শৈশব ও শিক্ষা জীবন অতিবাহিত করেন।
তিনি চল্লিশের দশকে একুশ বছর বয়সে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে কলকাতার দৈনিক লোকসেবক ও সাপ্তাহিক ‘ভগ্নদূত’ এর প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। করাচির বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘ডন’, ইলাসট্রেটেড উইকলি অব পাকিস্তান ও ইউনাইটেড প্রেস অব পাকিস্তান এর সিলেট সংবাদাতার দায়িত্ব পালন করেন ১৯৫০ সালের দিকে।
বিশিষ্ট চা-কর আমিনুর রশীদ চৌধুরী সাহেবের প্রেস লিপিকা এন্টারপ্রাাইজ এর ব্যবস্থাপক হিসেবে পেশামূলক দায়িত্ব পালন করেছেন ঝর্ণা ধর। আমিনুর রশীদ সাহেবের মালিকানা পরিচালনা ও সম্পাদনায় ১৯৩০ সালে প্রকাশিত যুগজয়ী সাপ্তাহিক যুগভেরীর সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন। ইংরেজী সাপ্তাহিক ইস্টার্ণ হেরল্ড পত্রিকারও সহকারী সম্পাদক ছিলেন।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রাচীনতম পত্রিকা সাপ্তাহিক যুগভেরী ছেড়ে দেশ স্বাধীনের পূর্বকালে ঝর্ণা ধর নিজ বাড়ীর সম্মুখে সিলেট প্রিন্টার্স নামে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা
করেন। তখন তিনি নিজের মালিকানা পরিচালনা ও সম্পাদনায় ১৯৬৯ সালে প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক ‘সিলেটবার্তা’। দেশ স্বাধীনের পর সিলেট বার্তা নতুন নাম ধারণ করে হয়ে যায় দেশবার্তা।
সিলেটের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী ঐতিহ্যবাহী পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হিমাংশু শেখর ধর ঝর্ণা বাবু।

সিলেটের সাংবাদিক সমিতির প্রথম কার্যকরী পরিষদেও তিনি সদস্য ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক সমিতি ইপজা সিলেট ইউনিট প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি বিত্তশালী, সম্ভ্রান্ত ও ধর্মপরায়ন ছিলেন। সিলেটের সনাতন ধর্মাবলম্বী অনেক প্রাচীনতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের নানা পদে যুক্ত থেকে প্রতিষ্ঠানের ধর্মাচার ও কার্যক্রম অক্ষুন্ন রেখেছেন। শ্রীশ্রী দূর্গাবাড়ীর উপদেষ্টা, চালিবন্দর শ্মশান সংস্কার সমিতির সভাপতি, বিশিষ্ট ভূপতি যোগেন্দ্র মোহন দাস মহাশয়ের দানকৃত ধর্মালয় মির্জাজাঙ্গালস্থ নিম্বার্ক আশ্রম পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি, কালিঘাট কালিবাড়ী পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, চৌহাট্টাস্থ ভোলানন্দগিরি রাসকুঞ্জ সেবাশ্রম, রাধাগোবিন্দ জিউর আখড়া ও রামকৃষ্ণ মিশনের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
সমাজসেবী হিসেবেও তিনি ছিলেন সর্বাধিক জনপ্রিয়। সিলেট পৌরসভার কমিশনার পদে নির্বাচিত হয়ে ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

(চলমান)