সৈয়দ হক-এর ফেসবুক থেকে

সৈয়দ হক-এর ফেসবুক থেকে

গত ঈদে আমি একটা গল্প লিখেছিলাম । শৈশবের বাড়ী যাওয়া নিয়ে । আমেরিকা থেকে আমার এক বন্ধু ফোন করে আমাকে বলেছে গল্পটি তাঁর খুব টেনেছে । গল্পটি যেন কন্টিনিউ করি । সেই গল্পে রানু ভাই আমাদের গাইড । তিনি আমাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন । আমরা সবাই তখন ছোট স্কুলে পড়ি ।

গত বেশ কয়দিন ধরে ফেসবুক দেখি সুযোগ পেলে । পারত পক্ষে কমেন্ট দেই না নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে । এরই মধ্যে সিলেট অঞ্চলে ঘটে গেছে এক নারকীয় ঘটনা । গ্যাং রেইপের শিকার হয়েছেন এক গৃহ বধূ । তাও আমার স্বপ্নের শহরে । জলেশ্বরী সেই শহরের স্বপ্নের মতো আমার নিজের কলেজ । যেখানে আমার পাঁচটি বছর কেটেছে ' ভাইয়ের স্নেহে বোনের মায়ায়' সেখানে । কলেজে ঢুকলেই একটা মায়া অনুভব করি । কলেজ গেইট , জারুল তলা , মোল্লার ক্যান্টিন । ক্যান্টিনে গোল হয়ে বসা ছাত্ররা দলে দলে বসে বড় কোন বড় তত্ত্ব নিয়ে রাজনৈতিক আলাপ করছে । পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেই দিন মনে পড়ে । আর হোস্টেল । ছবির মতো রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতীর মতো সেই হোস্টেলগুলো । ডাল আর সবজি খেলেও তাঁরা যারাই থাকতেন তাঁরা একেকজন ঋষি ছিলেন আমাদের কাছে । আহা !! সেই কলেজে ধর্ষণ । মনটা ভেঙ্গে পড়ে ।
মূল প্রসঙ্গে আসি . এমসি কলেজের এই গন ধর্ষণের পর বিভিন্ন ডাকসাইটে ব্লগার , মিডিয়ায় যাদের ফলোয়ার বেশী তাঁরা অকথ্য ভাষায় প্রিন্সিপালকে গালি গালাজ করেছেন । যা কিছু চুরি করো কেস্টা বেটা ই চোর । ইনিয়ে বিনিয়ে অনেকে অনেক কিছুই বললেন । ইনভেস্টিগেটিং রিপোর্টও কেউ করলো না । কলেজের পাঁচটা ব্লক বন্ধ । সব কটা রুমে তালা লাগানো । এম সি কলেজের হোস্টেলে যারা যাননি তাঁরা এই সিনারিও বুঝতে পারবেন না । পিছন দিকে কেউ যদি ঢুকে রুম ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে থাকে তবে হোস্টেল সুপার কি জানবে ? ঘটনা যেদিন ঘটলো সেদিন হোস্টেল সুপার সুনামগঞ্জে । করোনা কালীন ছুটিতে । হোস্টেল তো বন্ধ সেই মার্চ থেকে । এক সাংবাদিক বলছেন , প্রশ্নের পর প্রশ্ন ।এরা কি ভাবে থাকে ? এদের কি কখনো বের করে দিয়েছেন ইত্যাদি । তিনি উত্তর দিচ্ছেন , আপনি তো আমাকে প্রশ্ন করেছেন , প্লিজ লেট মি সে ফাস্ট । আমি যে বের করে দেইনি , পুলিশে রিপোর্ট করিনি সে কথা আপনাকে কে বললো তারপরও জিগায় সাংবাদিক । তিনি বলেন , আপনি যখন বলছেন তখন আপনিই উত্তর দিন । এই হোস্টেলের পাঁচটি ব্লকে গ্যাস সংযোগ কাটা সেই মার্চ থেকে । বিদ্যুৎ নেই সেই কভিড শুরু হওয়া থেকে । তারপরও সেখানে ছাত্ররা কিভাবে থাকে সেটা প্রশ্ন ।হোস্টেল সুপারের রুম পরিত্যক্ত সেই ২০১০ থেকে । গেইট বন্ধ , সামনের দরজা বন্ধ । তারপর ও তাহারা আস্তানা বানায় । বলছিলাম না এদের ক্ষমতা পাওয়ার । তিনি বলেছেন তিনি অসহায় । এটা নিয়ে তাঁকে ট্রল করা হয়েছে । বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজ গুলোতে যারা কাজ করেন তাঁরা সেই অসহায়ত্ব এর কথা জানেন । তাঁরা দেখেছেন এই কয়দিন আগেও বাপের বয়সী বুড়া শিক্ষকটিকে বরিশালের বি এম কলেজে চ্যাং দোলা দিয়ে কিভাবে মধ্যপুকুরে ফালানো হয়েছে ।খুলনার বি এল কলেজে ফেসবুকে দেখলাম বাপের বয়সী আরেক শিক্ষক দৌড়াচ্ছেন পিঠা খেয়ে শার্ট ছিঁড়ে ।জাহাঙ্গির নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য কে রুম বন্ধ করে জোরে চটকানো হয়েছে । ছাত্রনেতার কিছু হয় নি । শাহ জালাল বিশ্ব বিদ্যালয়ে সেলিব্রেটি শিক্ষক একা একা বৃষ্টিতে ভিজে তাঁর অসহায়ত্ব দেখিয়েছেন ।
এদের ক্ষমতা ও শক্তির একটি উদাহরণ দেই । এম সি কলেজের ১২৮ বছরের হল গুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে । দিয়েছে । তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসে কেঁদেছেন । বিচার হয় নি । বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কিছু করতে পারেনি । এদের " পাওয়ার" সম্বন্ধে একটু আইডিয়া নিয়েন ভাই । আটটি হত্যাকান্ড ঘটেছে । বেশির ভাগেরই বয়স ১৮ থেকে একুশের ভিতরে । উদয়েন্দুকে হত্যা করা হয়েছে প্রকাশ্যে রাস্তায় বিশ্বজিতের মতো । ফেসবুকে আসে নাই । একটির ও বিচার হয় নাই । সবাই বের হয়ে এসেছে । এজন্য এরা অপ্রতিরোধ্য । ইনবিন্সিবল হয়ে উঠেছিল/ উঠেছে । আরও অনেক ঘটনা । মেয়র আরিফ সাহেব নাকি সিলেটের সব ছড়া উদ্ধার করে ফেলেছেন । হোস্টেলের পশ্চিম পারে বালুচরের দিকে যে ছড়াটি হোস্টেলের লাগোয়া সেখানে ছড়ার উপরে গড়ে উঠেছে দুটো বিল্ডিং । আবারো বলছি এম সি কলেজের ছড়া দখল । আরিফ সাহেবের সাহস হয়নি এগুলো টাচ করতে । কোন পত্রিকায় ফেসবুকে টু টা শব্দ হয়নি । প্রয়াত মেয়র কামরান সাহেব নাকি এগুলো উদ্বোধন করে গেছেন । আল্লাহ তালা তাঁকে বেহেশত নসীব করুন । পশু অধিদপ্তরের বিসিএস কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের নাজেহালের কথা আর নাই বা বললাম ।

একটা মানুষের যোগ্যতা / ওহম নিয়ে যখন কেউ প্রশ্ন তুলে তখন দুঃখ লাগে , রাগ হয় । আর আমরা যারা সালেহ আহমেদ রানুকে খুব পাঁশ থেকে দেখেছি তাঁরা জানি তিনি কে ? ম্যাট্রিক ইন্টারমিডিয়েটে স্টার মার্ক পেয়ে পাঁশ করে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়েছেন । ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে বিসিএস পাঁশ করে শিক্ষকতায় ঢুকেছেন । তিনটি কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল হয়ে তিনি এই কলেজে প্রিন্সিপাল হয়েছেন । কাজে তিনি জয়েন করেছেন জানুয়ারিতে । মার্চে কলেজ বন্ধ । এই কলেজে তাঁর শিক্ষকতার বয়স দুই মাস আটারো দিন । সর্ব লয়ে । অজ এক পাড়া গ্রামের ছেলে এসে এম সি কলেজের শিক্ষক হয়েছেন । সেটা কেউ দেখছে না । হ্যাডম সব প্রিন্সিপালের উপরে । উপর দিকে ফেসবুকে লাইক দিতে প্যান্ট ভিজায়ে ফেলেন আর ঝি এর দিকে ঝাড়ি দিয়া বউরে দেখান ।

অনেক সমালোচনার উত্তর দিতে নেই । গত কয় দিনে দেখলাম কেউ তাঁরে বানাইছে জামাত । কেউ লীগ । সূর্য সেন হলের ১৬৮ নম্বর রুমে তার রুমমেট ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর , কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাজিদুর রহমান ফারুক । গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ রউফুন বসুনিয়া ছিলেন তাঁর ভাল বন্ধু । রানু ভাই ভালো গল্প লিখতেন ।বসুনিয়ার মৃত্যুর পর কি আবেগি একটা গল্প লিখেছিলেন " সেই দিন সেই মেয়ে " । এখনো মনে আছে । খুব ছোটবেলায় পুকুরে ডুবে প্রায় মারা গেছিলেন রানু ভাই । পুকুর থেকে তাঁকে তুলে এনেছিলেন তাঁর বাবা । অসাধারণ জীবনী শক্তির অধিকারি সালেহ আহমেদ রানু ভাই । আর আছে তাঁর জেদ কাজ করার ইচ্ছা । কাজের মাধ্যমেই তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের উত্তর দিবেন । কাজেই অনেক কিছুর উত্তর দিতে হয় ।
কপি রাইটঃ সৈয়দ হক ( তাহমীম ) / ফেসবুক পোষ্ট - নয় অক্টোবর ২০২০ । লেস্টার সায়ার । ইউ কে ।