সিলেটের চার উপজেলায় বন্যা, ডুবে গেছে নগরীর শামীমাবাদ

সিলেটের চার উপজেলায় বন্যা, ডুবে গেছে নগরীর শামীমাবাদ

ব্রেকিংস প্রতিবেদক : সিলেট জেলার চার উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। জেলার জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। পানিতে ডুবে গেছে সেখানকার রাস্তাঘাট। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর শামীমাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকাই এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে পানি বাড়ছে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। করোনাকালের এই বন্যা মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে তুলেছে।
সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সিলেটের মানুষ। সিলেটের একদিকে মেঘালয় ও অপরদিকে আসামের করিমগঞ্জ, মণিপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথই হচ্ছে সিলেট। সুরমা, কুশিয়ারা সহ অন্তত ১০টি শাখা নদী হয়ে এই পানি নিষ্কাশিত হয়। পাহাড়ি ছড়া বা নদী দিয়ে যেসব পানি প্রবাহিত হয় সেই পানি নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাটিতে চলে যায়। কিন্তু উজানে প্রবল বৃষ্টি হলে সীমান্তের বিভিন্ন স্থলপথ দিয়ে পানি প্রবেশ করে। এবারও ঘটছে তাই। ভারত থেকে নদীপথে পানি নামছে, তারপরও সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ঢল নামছে। এতে করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পানি বাড়ছে। 
সুরমা নদী উপচানো পানিতে তলিয়ে গেছে নদীর তীরবর্তী এলাকা, নগরীর শামীমাবাদ ও তার আশপাশের এলাকা। শামীমাবাদের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে ঘুমের মধ্যেই আঘাত হানে বন্যার পানি। ভোর হতে না হতেই পানিতে সয়লাব হয়ে যায় পুরো এলাকা। যেসব ছড়া বা খাল প্রবাহিত হয়েছে সেগুলো দিয়েই সুরমার পানি উপচে বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করছে। 

সিলেটের মাছিমপুর, ছড়ারপাড়া এবং বাণিজ্যিক এলাকা কালিঘাটেও পানি ঢুকেছে। সুরমা নদী তীরবর্তী এসব এলাকার জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড পুরোটাই নদী তীরবর্তী। বন্যার পানি থেকে রেহাই পায়নি শামীমাবাদ এলাকা। কম পক্ষে ১০টি এলাকায় সুরমার পানি উপচে ঢুকে গেছে। অলি-গলি পানিতে সয়লাব। অনেক মানুষ হয়ে পড়েছেন পানিবন্দি। সিলেট সদর উপজেলার বন্যার পরিস্থিতি ভালো না। সদরের টুকেরবাজার, বাদাঘাট, উমাইরগাঁও, হাটখোলা সহ কয়েকটি এলাকা চেঙ্গেরখালের পানি উপচে তলিয়ে গেছে। অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কানাইঘাটেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুরমা তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় পানি বাড়ছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে সুরমার ডাইকও।