সান্ডারল্যান্ডবাসী এক অভিভাবক হারালো

সান্ডারল্যান্ডবাসী এক অভিভাবক হারালো

: :  শা হি ন  আ হ ম দ  ::

সৈয়দ জামাল মিয়া, সান্ডারল্যান্ডের এক ইতিহাস। গোটা কয়েক বাঙ্গালী  সান্ডারল্যান্ড শহরে পদার্পন করায় আজ আমাদের কমিউনিটি কত বড় হয়েছে, আমার জানামতে  সৈয়দ কমল মিয়া সাহেব প্রথম বাঙ্গালী যিনি সান্ডারল্যান্ডে দিল্লিদরবার নামে রেষ্টুরেন্টের মাধ্যমে বসবাস শুরু করেন,এর পরেই আসতে থাকেন মোঃ মতিন মিয়া,ও সৈয়দ জামাল মিয়া সাহেব সহ আরও অনেকে। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নর্থইষ্ট তথা ইংল্যান্ডের আনাছে কানাছে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। তার সত্যায়িত রেষ্টুরেন্ট মতিরাজ ছিল তখনকার সময়ের কমিউনিটি সেন্টার। সেখানে আমাদের কমিউনিটির তাবৎ সমাস্যা সমাধানের মাধ্যম ছিল। তাদের মাধ্যমে গড়ে উটে আমাদের প্রাণের মসজিদ সান্ডারল্যান্ড জামে মসজিদ ও পরবর্তীতে হেনডন জামে মসজিদ। আমাদের কমিউনিটির সর্বস্হরের নেতা ছিলেন,যে কোন পরিস্হিতি সৃষ্টি হলে তার উপস্থিতি সমাধানের ভরসা খুজে পেত। অনেক গুনে গুণান্বিত ছিলেন। টাইনসাইড বাংলা এসোসিয়েশন নর্থইষ্টের প্রতিষ্টাতা সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। সৈয়দ পুর শামছিয়া সমিতির প্রতিষ্টাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি ছিলেন। 
সান্ডারল্যান্ড জামে মসজিদের ফাউন্ডার সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সান্ডারল্যান্ড বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টার বিনির্মানের প্রতিষ্টাতা সভাপতি ছিলেন। একজন ধার্মিক,পরহেজগারি ব্যাক্তি ছিলেন, একজন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্যাক্তি ছিলেন, তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা আমাদেরকে সবসময়ই অনুপ্রেরণা দিত, একজন শিক্ষানুরাগী হিসাবে সৈয়দপুর আইডিয়াল গার্লস স্কুলের আমৃত্যু প্রতিষ্টাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। আমরা তার আত্বার মাগফিরাত কামনা করি ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি, খোদা যেন তাদেরকে সবুর করার তৈফিক দান করেন। 
দোয়া করি আল্লাহ পাক তাকে যেন বেহেস্ত দান করেন। আমিন। 
কভিড ১৯ এর জন্য মরহুমের জানাযায় শরিক হতে না পারায় অনেকেই আপসোস করেছেন।

উল্লেখ্য যে, সান্ডারল্যান্ড ও সৈয়দপুর পশ্চিম পাড়া লাম্বা হাটি নিবাসী আলহাজ সৈয়দ জামাল মিয়া সাহেব 
গত ২৯শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার  ২০২০ইং ব্রেইন স্ট্রোক করে সান্ডারল্যান্ড রয়েল হসপিটালে বিকাল ৩ঃ৩০ মিঃ ইনতেকাল করেছেন। 
 তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। মৃত্যু কালে স্ত্রী, ৭ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে যান। বুধবার মরহুমের সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারের আত্বীয় স্বজনদের উপস্থিতিতে দাপনকার্য সম্পন্ন হয়। 

লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী, বাঙালি কমিউনিটি নেতা।