বাংলাদেশে গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন

ব্রেকিংস সংবাদদাতা :: ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম স্টেট নিউ সাউথ ওয়েলসের পার্লামেন্টে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে উত্থাপিত এক প্রস্তাবে জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটে এমন একটি নির্বাচন, গুম, খুন ও চলমান ধর্ষণের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। দেশটির অন্যতম রাজনৈতিক দল গ্রিনস এর নেতা এবং এনএসডব্লিউ লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের মেম্বার ব্যারিস্টার ডেভিড শুব্রিজ সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পার্লামেন্টের কার্যতালিকায় রেকর্ডকৃত এ প্রস্তাবটিতে মোট চারটি প্রসঙ্গ অবতারণা করেন ডেভিড শুব্রিজ।
প্রস্তাবনার প্রথমেই বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভাষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিলো সহিংসতাপূর্ণ এবং এই নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ ছিলো না।
দ্বিতীয় প্রসঙ্গে বাংলাদেশে অব্যাহত বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকারী হেফাজতে ধারাবাহিকভাবে মানুষ গুম হওয়ার ঘটনা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় বিষয়টিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড এবং কারাগারে আটক রাখার কথা বলা হয়।এতে উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় আটক রাখার বিষয়টি ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও আলোচিত হয়েছে।
চতুর্থ এবং সর্বশেষ পয়েন্টে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ঘৃণ্য যৌন সহিংসতার মহামারী আকারে অব্যাহত রয়েছে। অব্যাহত যৌন সহিংসার ঘটনার মাঝে অনেকগুলোতেই সরকারী দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করা একটি ছাত্র সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
এই বিষয় গুলো উল্লেখ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাতে ডেভিড শুব্রিজ অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল সরকারের কাছে দাবী জানান। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়া সহ সকল রাজনৈতিক বন্দীদের দ্রুত মুক্তি এবং নিরপেক্ষ ও যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহবান জানানোর জন্যও দাবী করেন ডেভিড শুব্রিজ। সবশেষে তিনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে যেন বাংলাদেশ সরকার বাধ্য হয় তার দাবী করেন।
ছয়টি স্টেট এবং দুইটি টেরিটরির সমন্বয়ে গঠিত দেশ অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেট হলো নিউ সাউথ ওয়েলস বা এনএসডব্লিউ। এই স্টেটের রাজধানী শহর হচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত শহর সিডনি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক প্রবাসীরা এনএসডব্লিউ স্টেটের বাসিন্দা। এ স্টেটেরই পার্লামেন্টে বাংলাদেশ নিয়ে এই প্রস্তাব আনয়নের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং প্রবীণ প্রবাসীরা মতামত ব্যক্ত করেছেন।
গ্রিনস দলের একজন মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন ও গণতন্ত্র হরণের বিষয়গুলো নিয়ে খুব দ্রুতই তারা আরো উচ্চপর্যায়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এছাড়া আজকের উত্থাপিত প্রস্তাবের বিষয়ে পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনার জন্যে দলটি নানা তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য যে এর আগে ২০১৮ সালে গ্রিনস দলের তৎকালীন নেতা রিচার্ড ডি নাটালি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আইনসভা ফেডারেল সিনেটে বাংলাদেশে সরকারী মদদে পরিচালিত গুম, খুন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।