বাঘে ধরলে আঠারো ঘা আর পুলিশে ধরলে ছত্রিশ 

বাঘে ধরলে আঠারো ঘা আর পুলিশে ধরলে ছত্রিশ 

শিব্বীর আহমদ শুভ

বাঘে ধরলে আঠারো ঘা আর পুলিশে ধরলে ছত্রিশ। এই প্রবাদ বাক্য কিন্তু মোটেও অমূলক নয়। পুলিশ বা পুলিশী ঝামেলা সাধারণ মানুষ সবসময়ই এড়িয়ে চলে। পারতপক্ষে মামলা করতেও সাধারণ মানুষ থানাতে যেতে চায় না। আমাদের দেশের পুলিশের ভাষা মানে খিস্তি খেউড়  শুনলে তো মরা মানুষ উঠে দৌড় দেবে। *দির ভাই দিয়ে এদের বেশীর ভাগেরই জবান খুলে। আর গ্রামাঞ্চলে এখনো বাচ্চাদের খাওয়ানো আর ঘুম পাড়ানো হয় পুলিশের ভয় দেখিয়ে। পুলিশের সাথে ঘুষ শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত । এই পেটোয়া বাহিনীকে একসময় ঠোলা বলা হতো। সিলেটে আমরা বলতাম উলস (ছারপোকা)। 


অথচ এমন হওয়ার কথা ছিলো না। এরা তো আমাদের মতো মানুষ । এরাই তো কারো মা, বাবা, ভাই, বোন। পুলিশ জনগণের বন্ধু। এই বন্ধু কেন যে বেঈমান হয় বা হয়ে যায় তা বোধগম্য নয়।
আমাদের এক নানী ছিলেন খুবই কড়া আর বদমেজাজী। আমরা তাকে দারোগা নানী ডাকতাম । দারোগা কেন ডাকতাম জানিনা; তবে দারোগা হলেই যে বদমেজাজী আর কড়া হবে সে বিশ্বাসেই হয়তো তাকে দারোগা ডাকতাম । এর মানে,  মন মগজে ঢুকেই গেছে দারোগা মানেই বদমেজাজী টাইপের কিছু। 


সত্য মিথ্যা জানিনা, কথিত আছে এক দারোগার বউ নাকি ঈদের আগে বলছে এবার ঈদ কেমনে হবে গো ? এখন পর্যন্ত যে এলাকায় কোন মার্ডার হলো না!
আমাদের পাশের বাসার মিলিদি’র বিয়ের জন্য একবার পুলিশের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রস্তাব এলো। পিসিমনি মানে মিলি’দির মা প্রস্তাবটা ফিরিয়ে দিলেন। পিসিমনি কে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন ফিরিয়ে দিলেন? ছেলেটা তো ভালো! পিসিমনি বললেন অভিশাপ। জানিস নারে এদের উপর অনেক অভিশাপ থাকে। আমি আর কিছু বলিনি। কি ই বা বলার আছে?


সব আমলেই পুলিশের দাদাগিরি আমরা দেখেছি। আপনারা যারা অতীত নিয়ে তেমন ঘাটাঘাটি করতে চান না বা বিগত বছরগুলো মনে করতে চান না, বর্তমান নিয়েই আছেন তাদের দিনাজপুরের ইয়াসমীনের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই ।কিম্বা জুতার ফিতায় ফাঁস লাগানোর ঘটনাও মনে করিয়ে দিতে চাই। শুধু শুধু একচোখা নীতি পরিহার করে আসুন সবাই মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি এসব পুলিশ বাহিনীর নোংরা কীটদের বিরূদ্ধে। নিরীহ রায়হান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর যেনো কোন মায়ের কোল খালি না হয়, কোন সন্তান যেন হয় না পিতৃহারা কিম্বা কোন স্ত্রী যেন না হারায় তার প্রাণপ্রিয় স্বামী।


একেকটা থানায় অলিখিত ভাগ বটোয়ারার অংশ নীচ থেকে থানার উপর মহল পর্যন্ত যায়। সেই চক্র বা সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে হবে এবং সাথে সাথে বন্ধ করতে হবে সব ধরণের ঘুষ বা লেনদেন বাণিজ্য। সেটা কি আদৌ সম্ভব? একটা কথা মনে রাখা উচিত, পুলিশ কিন্তু পুলিশকে ঘুষ দেয় না। আমরা জনগণই পুলিশকে ঘুষ দেই। 
পরিশেষে বলি সব পুলিশ কিন্তু খারাপ না। প্রদীপ, লিয়াকত কিম্বা আকবরের মতো যেমন খারাপ পুলিশ  তাদের পুরো বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তেমনি আমরা দেখেছি  পুলিশের কনেষ্টবল পারভেজ মিয়া যিনি ৪০ জন বাসযাত্রীর মধ্যে একাই ২৬ জনকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচিয়ে ছিলেন বা সুপার হিউম্যান খ্যাত মানবিক পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ শওকত হোসেনকে । আমরা দেখেছি কভিডের দূর্যোগে এই পুলিশই এগিয়ে এসেছে জনগণের দ্বারপ্রান্তে । 


এবার এই পুলিশই তাদের হৃতগৌরব আবার ফিরিয়ে আনুক জনগণের মধ্যে ভালোবাসা বিলিয়ে। জনগণের সত্যিকারের বন্ধু হোক। ‘পুলিশ ধরলে ছত্রিশ ঘা'-এই প্রবাদ মিথ্যে প্রমাণিত হোক। আমাদের রক্ষকরা যেন ভক্ষক না হোক। 
পুলিশ অন্য গ্রহ থেকে আসেনি। দিন শেষে এরা মানুষ। আমাদের কারো না কারো আত্মীয়।

বার্নলী
ল্যাংকাশায়ার 
ইউ .কে