প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা যুগযুগ ধরেই উন্নয়ন বঞ্চিত

হাওরে নুয়েপড়া বিদ্যুৎ দূর্ঘটনার আশংকা

প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা যুগযুগ ধরেই উন্নয়ন বঞ্চিত

এনামুল হক সাজনুর :: প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপেজেলা যুগযুগ ধরেই উন্নয়ন বঞ্চিত। উপজেলাবাসীর জীবন-মান উন্নয়নে কোনো সরকারের আমলেই নেয়া হয়নি কার্যকর উদ্যোগ। নিয়ম মাপিক গ্রামীন রাস্তা-ঘাট উন্নয়নের নামে চলে সরকারি অর্থে,র হরিলুট। অথচ এই উপজেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ৮টি সকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। যারা দেশের জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।এর মধ্যে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, তাঁর ছোট ভাই সাবেক অর্থপ্রতিমন্ত্রী ফারুক রশীদ চৌধুরী। বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ মান্নান গত সকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী থাকলেও বর্তমান সকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এসব বরেণ্য ব্যক্তিদের তাদের প্রতিনিধি হিসেবে মহান সংসদ পাঠালেও জগন্নাথপুরবাসীর কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। এ যেন অনেকটা বাতির নিচে অন্ধকারের মতো অবস্থা। যার ফলে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপেজেলার উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান হচ্ছেনা। আর এই জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উদসীনতা, ব্যক্তি স্বার্থতাকেও দায়ী করছেন অনেকেই। উপজেলাবাসীর উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সর্বদলীয় কোনো উদ্যোগ নেয়নি কেউ। সরকারী মসনদ আর রাজপথের আন্দোলন এই দুটির সমন্বয় ছাড়া কোথাও কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি-  এমন একটি অঘোষিত রীতি চালু হয়েছে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সমন্বয় এলাকার উন্নয়নকে তরান্বীত করে।

জগন্নাথপুর জামাইকাটা হাওরে বিদ্যুৎ এর খাম্বা ও তার ঝুলে গেছে। প্রতিটি খাম্বা পশ্চিম দিকে হেলে আছে। কয়েক সপ্তাহ আগে নৌকার লগি বিদ্যুৎ এর তারে লেগে এক ইট শ্রমিক নৌকা থেকে পড়ে যায় দুদিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বৈদেশিক রিজার্ভে সর্বোচ্ছ রেমিটেন্স যোগান দাতা জগন্নাথপুর বাসির অবস্থা এমন হয়েছে যে, বর্ষায় নাও আর শুকনায় পাও। জগন্নাথপুর গ্রাম বাংলার একটি ঐতিয্য মণ্ডিত এলাকা। জগন্নাথপুর পৌর এলাকা হওয়ায় জগন্নাথপুর বাসি আশায় বুক বেঁধেছিল যে এ পৌর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন হবে। যেমন ব্রীজ,কালভার্ট,রাস্তাঘাট উন্নত হবে, তেমনি পৌর এলালাকার শ্রীবৃদ্ধি পাবে।কিন্ত বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সিলেট ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুর থেকে জগন্নাথপুর পৌর শহর পর্যন্ত এলাকার দূরত্ব প্রায় ২৬ কি:মি:। এ রাস্তা দিয়ে প্রাইভেট কার,লাইটেস নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্ট সাধ্য। বাস,মিনিবাস,ট্রাক,কাভার্ড ভ্যান প্রায়ই গর্তে ধেবে যায়। প্রায় সময় এ সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরবাসীর বিভাগীয় শহর সিলেটে আসা- যাওয়ার একমাত্র সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কে বিরাজ করছে বেহাল দশা। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে পুকুর সদৃশ বড় বড় গর্তের। সড়কটির খানাখন্দক আর গর্তের চিত্র এখন ভয়ংকর। ফলে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী  হয়ে পড়েছে।সিলেট শহর থেকে জগন্নাথপুর পৌর শহরে পৌঁছতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা।

জগন্নাথপুর থেকে বিশ্বনাথ বাইপাস পর্যন্ত রাস্তায় হাজারের ওপরে গর্ত রয়েছে।তা ছাড়া সড়কের রক্ষনাবেক্ষণ হচ্ছেনা ঠিক মতো। এ রাস্তায় কিছু কিছু গর্তে নিম্নমানের ইট বসানো হয়েছিল এসব ইট গর্তে ভিজে মরিছের গুড়ার মতো লাল হয়ে গেছে।এ ইটের ছিটে ফুঁটে পথচারীর ওপর পড়লে যাত্রা ভংগ হয়। এ অবস্থায় চলছে এলাকার লোক জন। এক সমীক্ষায় দেখা যায় প্রতি বছর এ সড়ক বন্যায় ডুবে যায়। বছর বছর এক ইঞ্চি পরিমান সড়ক ধেবে গেলে গত বিশ বছরে বিশ ইঞ্চি রাস্তা ধেবে গেছে নীচের দিকে। জগন্নাথপুর কেউন বাড়ির নিকট যে ব্রিজ নির্মিত হচ্ছে তা ও মান্দাতা আমলের ছোট আকারে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের ভবিষ্যত সুদুর পরাহত। যদি ও জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ জেলার আওতাধীন পৌরএলাকা। বাস্তবে এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সিলেট কেন্দ্রিক। গত পঞ্চাশ বছরে সিলেট শহরে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর যে পরিমাণ স্থাবর সম্পত্বি রয়েছে তা আগামী একশো বছরে সুনামগঞ্জ শহরে গড়ে উঠা সম্বভ হবে কি না তা বলা মুশকিল।

উন্নয়ন ক্ষেত্রে জগন্নাথপুরবাসী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। জগন্নাথপুর পৌর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, উন্নয়ন ক্ষেত্রে জগন্নাথপুর বাসি পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে পড়েছে। রাস্তা নেই, ব্রিজ, কালভার্ট জীর্ণশীর্ণ কোন পরিকল্পনাহীন উন্নয়নের ডিমে তালে চলছে। জগন্নাথপুর থেকে বিশ্বনাথ বাইপাস পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করা হোক এটাই আমার প্রথম দাবি। এ রাস্তায় চলতে গিয়ে গর্তে পড়ে মা তার সন্তান প্রসব করে এটা আমাদের জন্য লজ্জার। পৌর এলাকার সাথে কয়েকটি ইউনিয়ন যুক্ত হয়েছে। এ সব এলাকায় রাস্তাঘাট বিশুদ্ধ পানিও জলের সমস্যা প্রকট। পৌর এলাকার বেশ কিছু ওয়ার্ড প্রতি বছর বন্যায় ডুবে যায়।এলাকাবাসি চায় উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও অবকাটামোগত সুবিধা। সার্ভের মাধ্যমে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরের সমস্যা চিহ্নিত করে এর সমাধানের উপায় বের করতে হবে। সরকারের কাজে কর্মে জগন্নাথপুর বাসীর চাহিদা পূরণ হবে এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।