করোনাকাল এবং আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া

করোনাকাল এবং আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া

সা মা দ  আ লি


বিশ্ববাসি এক নজীরবিহীন দুর্যোগময় সময় অতিক্রম করেছেন।  চারিদিকে ভেসে আসছে মৃত্যুর খবর। শিশু থেকে যুবক-বৃদ্ধ কেউই বাদ পরছেননা ।  স্কুল-কলেজ মাসের পর মাস বন্ধ হয়েই আছে। কবে যে আগের মতো তাঁর ছন্দ খুঁজে পাবে, তা ঠিক মতো কেউ বলতে পারছেন না। সেই বাস্তবাতার প্রেক্ষাপটে, এই ক্রান্তিকালে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া কেমন চলছে, তা নিয়ে পিতা-মাতাদের উদ্বেগের শেষ নেই!


কালজয়ী লেখক, আর্নেস্টহেমিঙ্গয়ের যুগান্তকারী উপন্যাস, দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সীতে, ওপন্যাসিক শৈল্পিকভাবে বর্ণনা করেছেন, বিপদ মানুষ কে সব সময় পিছে থেকে তাড়া করে। ধৈর্য্য ও সাহসের সাথে মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই মানুষের জয়সুনিশ্চিত। মানব জাতি কখনো প্রকৃতির কাছে পরাজয় স্বীকার করেনি।  এই দুর্যোগের মাঝেও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।  আবারও স্বপ্ন দেখবে বেঁচে থাকার।  নতুন করে পথ চলার।  

আমরা আমাদের সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখি।   স্কুল-কলেজের নিয়মিত পাঠদান ছাড়া কিভাবে চলেছে তাদের লেখাপড়া। বিশেষ করে আমাদের কোমলমতি শিশুদের প্রতি।  যে সময় বই-খাতা আর স্কুলের ব্যাগ নিয়ে ছুটাছুটি করার কথা। সহপাঠি আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আনন্দ উচ্ছাসে বিদ্যালয়ের আঙিনায় ব্যস্ত সময় পারাপারের মাধ্যমে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করার কথা।  সেই সময়, করোনা নামক ভাইরাসের কালো থাবায় ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে আছেন আমাদের সন্তানরা।

ঘরের মধ্যে তারা একবিংশ শতাব্দির নতুন উদ্ভাবিত তথ্য প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গেইম আর ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত।  অবশ্য ইআমরা নতুন উদ্ভাবনকে সাধুবাদ জানাই। এই করোনাকালে প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত বিশ্ব তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সীমিত আকারে হলেও চালিয়েছেন। সেই সাথে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, নতুন প্রযুক্তি যেন আমাদের সন্তানরা তাদের কল্যাণে ব্যবহার করে।  আমদের কল্যাণের জন্য প্রযুক্তি- প্রযুক্তির কল্যানের জন্য আমরা নই।  পিতা-মাতাকে খেয়াল রাখতে হবে, নতুন প্রযুক্তি যেন সন্তানদের গাঢ়ে চড়ে না বসে।

এহেন পরিস্থিতে, পিতা-মাতাকে সন্তানদের উৎসাহ যোগানো, নিয়মিতভাবে ঘরের মধ্যেই লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।  শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই যেন তাদের খামখেয়ালিপনার মধ্য দিয়া তাদের জীবনের মূল্যবান সময় কে নস্ট না করে, সেদিকে নজর রাখা।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যেখানে ইংল্যান্ডের বাচ্চাদের কাছে সব সময় যুদ্ধের আতংক, শত্রু  বিমানের আগমনি সাইরেনের শব্দ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল।  সেই অবস্থার মধ্যেও সীমিত আকারে তারা তাদের বাচ্চাদের বাংকারের ভিতরে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছিলেন।  আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস; এক সময় দুর্যোগ কেটে যাবে।  আবার পৃথীবি তাঁর ছন্দ খুজে পাবে।  জীবনের চাঞ্চল্য ফিরে পাবে কোমলমতি শিশুরা।

লেখক : যুক্তরাজ্য প্রবাসী শিক্ষক।